Header Ads

Header ADS

রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে

 


ভোটার নিবন্ধনে চার জেলার বিশেষ এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরও রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নেয়ার পাশাপাশি ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। রোহিঙ্গারা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) গ্রহণের অপচেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন রকম অপরাধমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে বলে সরকারের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে উদ্বেগ বাড়ছে সরকারে। কারণ রোহিঙ্গা জালিয়াতি করে এনআইডি কার্ড বানিয়ে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। অবৈধভাবে পাসপোর্ট নিয়ে কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে, সেখানে গিয়েও অপরাধে

লিপ্ত হচ্ছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ‘রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধাপ্রাপ্তি ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন রোধে’ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে আজ অনলাইনে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ এপ্রিল রোহিঙ্গা অধ্যুষিত কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি এবং চট্টগ্রামের ৩২টি উপজেলা/থানাকে ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ‘বিশেষ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ওইসব এলাকায় নতুন নিবন্ধনকালে নিবন্ধন ফরম-২ এর অতিরিক্ত বিশেষ তথ্য ফরমে প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। বিদ্যমান বিধি অনুসারে প্রতিটি ফরম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের বিশেষ কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিশেষ এলাকাসমূহে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ক্ষেত্রমতে তা উপেক্ষা করে রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়ে নাগরিক সুবিধা গ্রহণ করে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণের অপচেষ্টা চালায় এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হচ্ছে।’

অনেক রোহিঙ্গা অবৈধভাবে জন্ম সনদ গ্রহণের মাধ্যমে পাসপোর্ট করে মধ্যপ্রাচ্যসহ নানান দেশে গমন করে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নানা অপরাধ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধমূলক কর্মকান্ড দিন দিন বেড়েই চলছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হলে স্বাভাবিকভাবে ওইসব এলাকায় সন্ত্রাসবাদের উত্থান হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। খুন, ধর্ষণ, মাদক কারবার, শিশু পাচার, চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, পতিতাবৃত্তিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা। কক্সবাজারের দুই উপজেলার ৩২টি ক্যাম্পে গত প্রায় তিন বছরে রোহিঙ্গাদের হাতে অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা। নভেম্বরের প্রথম দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উখিয়ায় কুতুপালং ক্যাম্পে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন নিহত হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায়ই সংঘাত-সংঘর্ষ হচ্ছে। বিশেষ করে মাদক কারবার, অস্ত্র ও স্বর্ণ ব্যবসা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে।

রোহিঙ্গার সংখ্যা ও আশ্রয়

মায়ানমার সেনাবাহিনী ও ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের জাতিগত নিপীড়নের মুখে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর এবং ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল নামে। বর্তমানে নতুন ও পুরনো মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। উখিয়া ও টেকনাফে ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ সরকার। এদেশে তাদের অনুপ্রবেশের ইতিহাস নতুন নয়। ১৯৭৮ সাল থেকে নিয়মিতভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে বাংলাদেশে।

দেশে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গার প্রবেশ ঘটে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে। ওই বছরই প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালে আরও প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরও আগে বিভিন্ন সময়ে মায়ানমারে নির্যাতনের মুখে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা, যা দশকের পর দশক ধরে কক্সবাজারে অবস্থান করছে। কেউ কেউ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পরেছে।

বাংলাদেশ ও মায়ানমার সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুসারে এরই মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শেষ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু মায়ানমার সরকারের উদাসীনতার কারণে তা শুরুই হয়নি।

চার জেলার ৩২টি ‘বিশেষ এলাকা’

২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ‘বিশেষ এলাকা’সমূহে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে কক্সবাজারের সদর উপজেলা, চকোরিয়া, টেকনাফ, রামু, পেকুয়া, উখিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া।

বান্দারবানের সদর উপজেলা, রুমা, থানচি, বোয়াংছড়ি, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যাংছড়ি উপজেলা।

রাঙ্গামাটির সদর উপজেলা, লংগদু, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বরকল উপজেলা।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগড়া, বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া এবং কর্ণফুলী উপজেলা।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.